২৮ মে ১৯৯২
মসজিদে আবু হাফস কবীর, বুখারা, উজবেকিস্থান
https://maps.app.goo.gl/S9z8bp4NrcZFS4tM6
https://en.wikipedia.org/wiki/Abu_Hafs_Kabir_Bukhari_Memorial_Complex
উজবেকিস্তানের একটি বিখ্যাত শহর বুখারা। সেই বুখারা শহরের একটি মসজিদ "মসজিদে আবু হাফস"
মাহবুবুল উলামা ওয়াস সুলাহা শায়েখ জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী (দামাত বারাকাতুহু) এই মসজিদে এসে পৌঁছলে মসজিদের ইমাম বললেন যে, একজন ইংরেজ তরুণী হজরতজীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে খুঁজছেন। বর্তমানে তিনি বুখারা টুরিস্ট হোটেলে অবস্থান করছেন।
হজরতজী মাওলানা আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে সেই হোটেলে গেলেন। হোটেল কাউন্টার থেকে বলা হলো, ইংল্যান্ড থেকে যারা সফর করতে এসেছেন, তারা আজকে ৫০ মাইল দূরে কোনো একটি শহরে বেড়াতে গিয়েছেন। একথা শুনে মাওলানা আব্দুল্লাহ খুব আফসোস করলেন।
হজরতজী কোনো কথা না বলে কিছুক্ষণ সেই তরুণীকে লক্ষ্য করে গায়েবানা তায়াজ্জুহ দিলেন। এরই মধ্যে সেই রিসিপশনিস্ট ডাক দিয়ে বললেন, সফর দলের মধ্য থেকে একটি মেয়ে শুধু যায়নি, হোটেলে রয়ে গেছেন এবং ইনিই সেই তরুণী, যিনি হজরতজীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
একটু পর তরুণী মাথায় স্কার্ফ পরে এরাবিয়ান পোশাকে নিচে নেমে এলে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলো :
তরুণীটি বললেন - "আপনাকে হন্যে হয়ে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি"
হজরতজী বললেন - مَن جَدَّ وَجَدَ - যে চেষ্টা করে সে পায়, আপনি কী জানতে চান?
তরুণী বললেন - "আমি প্রশান্তি অর্জন করতে চাই"
হজরতজী বললেন - "প্রশান্তি পাওয়া যায় প্রশান্তিদায়ক কাজের মাধ্যমে"
তরুণী বললেন - "আপনি তো ইউরোপের পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে অবগত আছেন। আমি আমার সমস্ত প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করে দেখেছি। কিন্ত সেখানে প্রশান্তির পরিবর্তে অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে গভীর অধ্যায়ন করি এবং বুঝতে পারি যে, "সুফী-সাধকদের" জীবনধারার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজমান। আমি নক্শবন্দিয়া তরিকায় জিকির করা শুরু করি।
হজরতজী জিজ্ঞেস বললেন - "আপনি মুরাকাবা করেন কিনা!"
তরুণী বললেন - "হ্যা দিনে কয়েকবার করে থাকি এবং সব মিলিয়ে ৩ ঘণ্টার মত করে থাকি"
তরুণীর মুখে এই কথা শুনে হজরতজী যারপর নাই বিস্মিত হলেন।
শুধু তাই নয়, এরপর তরুণী আরো বললেন- "আমি খোলওয়াত দর আঞ্জুমান, নজর বর কদম, সফর দর ওয়াতান, হুশ দর দম ইত্যাদি পরিভাষা বুঝি। তাছাড়া শাহ নক্শবন্দ বুখারী (রহ.)-এর পরিভাষা উকুফে কলবী, উকুফে আদি এবং উকুফে জামানি সম্পর্কে সামান্য অবগত আছি।
সেই তরুণীর কাছ থেকে এ ধরনের কথা শুনে হজরতজী আরো আশ্চর্য হয়ে গেলেন।
এরপর সেই তরুণীকে হজরতজী আনুমানিক দুই ঘণ্টা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন।
তরুণী অবশেষে বললেন - "আজ আমার বুখারা সফরে আসা সার্থক হলো।"
হজরতজীর সংস্পর্শে এসে একজন ইউরোপীয় তরুণী মাত্র ২/৩ ঘণ্টা আলোচনা করে জীবনের দিকনির্দেশনা পেয়ে গেলেন।
ছবি: আবু হাফস কবির বুখারী মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স