২ জুন ১৯৯২
করাচী, পাকিস্তান
https://maps.app.goo.gl/MqyY7Lck6T3N7euQ7
https://en.wikipedia.org/wiki/Karachi
মাহবুবুল উলামা ওয়াস সুলাহা শায়খ জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী (দামাত বারাকাতুহু) ১৯৯২ সনে করাচি বিমানবন্দর থেকে প্লেনে চড়ে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দের উদ্দেশ্যে সফর শুরু করলেন। যে সফর ছিল বরকতপূর্ণ, শিক্ষামূলক, অসংখ্য বৈচিত্রপূর্ণ ঘটনাবলীতে ভরপুর।
প্লেনে হজরতজীর পাশে একজন নাস্তিক আসন গ্রহণ করলেন এবং বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন।
সেই ব্যক্তি হজরতজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন- "আপনি যে রাশিয়া যাচ্ছেন, তারা তো বিজ্ঞানে অনেক পারদর্শী। তাদের সাথে আপনি কিভাবে কথা বলবেন?"
হজরতজী তখন বিজ্ঞান বিষয়ে কিছু আলোচনা করলেন, যা শুনে সেই ব্যক্তি হতভম্ব হলেন।
এরপর বললেন - "আমার জানা ছিলো না, আপনার মত একজন ব্যক্তি বিজ্ঞান বিষয়ে এ ধরনের জ্ঞান রাখেন। আমাকে ক্ষমা করবেন। তবে আমার একটি প্রশ্ন আছে, তা হলো - কোরআন না বুঝে পড়লে কেন সওয়াব হবে?"
হজরতজী উত্তরে বললেন - "হাদিস শরীফে রয়েছে, কোরআন বুঝে কিংবা না বুঝে যেভাবেই পাঠ করা হোক, উভয় অবস্থায় সওয়াব পাওয়া যায়।"
তারপরও সেই ব্যক্তি বলেন - "এরচেয়ে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিন"
হজরতজী তখন বললেন- “কেউ যদি কাফ, হা, ইয়া, আইন, সোয়াদ كهيعص পাঠ করে, তাহলে সে সওয়াব পাবে কি না”?
সে বলল, হ্যাঁ পাবে। যেহেতু এগুলো কুরআনের শব্দ।
হজরতজী তখন বললেন, “এর অর্থ কী”?
সে বলল, “এগুলো হরফে মুকাত্তায়াত, এর অর্থ বলা হয়নি"
হজরতজী তখন সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন। যার সংক্ষেপ হলো- "হরফে মুকাত্তায়াত শব্দ না বুঝে পাঠ করলে যদি সওয়াব পাওয়া যায়, তাহলে অন্যান্য শব্দ যেগুলোর অর্থ রয়েছে, সেগুলোও যদি কেউ না বুঝে পাঠ করে, তাহলে সেটারও কেন সওয়াব পাওয়া যাবে না?”
এরপর সেই ব্যক্তি আরো একটি প্রশ্ন করলো, “নামাজ আরবি ভাষায় না পড়ে মাতৃভাষায় পড়লে সমস্যা কী?”
হজরতজী তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন, "যদি যার যার মাতৃভাষায় নামায পড়ার অনুমোদন দেয়া হত, তাহলে চৌদ্দশত বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বর্তমান নামাযের অবস্থা সম্পূর্ণ উলট-পালট হয়ে যেত। উম্মত নামায আদায় করার পরিবর্তে তবলা, বাজনা, বাঁশি ইত্যাদি বাজাত। ইবাদতের নিয়ম-শৃঙ্খলা পুরোটাই পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়ে যেত।"
হজরতজীর আন্তরিকতাপূর্ণ হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা এবং তাওয়াজ্জুহের কারণে নাস্তিক ব্যক্তির অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করল। তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল।
তখন তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, "আমি তওবা করে নতুনভাবে ইসলাম গ্রহণ করব"।
তার কথা শুনে হজরতজী আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন:
وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِي لُولَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ
অর্থ: “আমরা হেদায়েত পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত নসীব না করতেন”
[সুরা আল আরাফ ৭:৪৩]
হজরতজীর ৭৫ দিনের রাশিয়া সফরের শুরুতে এটাই ছিল প্রথম ঘটনা, যেখানে একজন নাস্তিক অল্প সময়ের জন্যে হজরতজীর মুখ নিঃসৃত মূল্যবান হৃদয়গ্রাহী আলোচনা শুনে তওবা করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
মূলত, শায়খ জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী (দামাত বারাকাতুহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রুহানী নির্দেশে ৭৫ দিনের জন্যে বৃহত্তর রাশিয়া সফর শুরু করেন। এই সফরের মাধ্যমে অগণিত মানুষ যেমন হেদায়াতপ্রাপ্ত হন, ঠিক সেভাবে নক্শবন্দিয়া সিলসিলার নিসবত ও বরকত সমস্ত রাশিয়া জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে।
ছবি: করাচী বিমানবন্দর