২৭ জুলাই ১৯৯২
খারকিভ, ইউক্রেন
https://maps.app.goo.gl/MaE48XKNjmbHoSJMA
https://en.wikipedia.org/wiki/Kharkiv
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হল খারকিভ। রাশিয়ার সর্বপ্রথম এটোম বোমা এই শহরে তৈরী করা হয়েছিল।
হজরতজী দামাত বারাকাতুহু ইউক্রেন সফর শেষ করে রেল স্টেশনে পৌঁছলেন মস্কো যাবার উদ্দেশ্যে। স্টেশন মাস্টার ছিলেন একজন বয়স্ক রুশ মহিলা। তিনি জানালেন যে, একটি সিটও খালি নেই। রাবেল তাজউদ্দীন এবং অন্যান্যরা যখন টিকিট দেবার জন্যে অনুরোধ করছিলেন, সেই মুহূর্তে একজন রুশ তরুণী এগিয়ে এলেন। তিনি পুনরায় বৃদ্ধা স্টেশন মাস্টারকে বললেন টিকিট দেবার জন্য।
স্টেশন মাস্টার পুনরায় বললেন - “কোনো টিকিট নেই।”
তখন সেই তরুণী জানতে চাইলেন - “অন্য কোনো বিকল্প আছে কিনা?”
বৃদ্ধা বললেন - "সামনের বগিতে আমাদের অফিসার ইনচার্জ রয়েছেন, তার কাছে স্পেশাল টিকিট থাকতে পারে"
তখন তরুণী বললেন - "আপনি একটি কাগজে দস্তখত করে দিন, আমি নিজে তার সাথে কথা বলবো।"
স্টেশন মাস্টার দস্তখত করে দিলে সেই তরুণী অফিসার ইনচার্জ এর সাথে দেখা করার জন্য কাগজ নিয়ে চলে গেলেন।
টিকিট না পেয়ে রাবেল তাজউদ্দীন যখন অস্থির হয়ে গেলেন।
তখন হাজরতজী দামাত বারাকাতাহু তাকে বললেন - "আমাদের কাজ হলো দোয়া করা এবং তাওয়াজ্জুহ দেওয়া, আল্লাহর তায়ালা অবশিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ করে দিবেন।"
এর মধ্যে সেই তরুণী হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এসে রাবেল তাজউদ্দিনকে বললেন যে, ৪টি টিকিট সংগ্রহ করা গিয়েছে।
স্টেশন মাস্টার এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে তরুণীকে জিজ্ঞেস করলেন - “সে কেন তাদের জন্যে এমন পরিশ্রম করছে?”
তরুণী বললেন - "আমি এই মেহমানের কাছ থেকে দোয়া নেয়ার জন্যেই এটা করেছি।"
হজরতজী দামাত বারাকাতুহু সবকিছু শুনে রাবেল তাজউদ্দিনকে বললেন- তরুণীকে জিজ্ঞেস করার জন্যে প্রকৃত কারণ কী?
তরুণীটি তখন রাবেল তাজউদ্দিনকে বললো- "আমি গতরাতে স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি।আর আপনি আমার জন্যে বিশেষ দোয়া করছেন। আমি ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে এসেছি। স্টেশনে সমস্ত যাত্রীর মধ্যে আপনাকে আমার স্বপ্নে দেখা ব্যক্তির সাথে হুবহু মিল পেলাম। দোয়া চাইতে সংকোচ বোধ করছিলাম। এর মধ্যে যখন দেখলাম, আপনারা টিকিট পাচ্ছেন না। তখন এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে এলাম। এখন আমি আপনাদের জন্যে ৪টি সিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তাই আমার জন্য এই বুজুর্গ যেন দোয়া করেন।"
ঘটনার আদ্যপান্ত শুনে হজরতজী তার হেদায়াত এবং সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্যে দোয়া করেন। তরুণী হজরতজীকে ভক্তিপূর্ণ সালাম করে। এর মধ্যে ট্রেনের হুইসেল বেঁজে উঠে। তরুণী ট্রেনে উঠে পড়ে অপলক চোখে হজরতজীর দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং বহুক্ষণ পর্যন্ত হাত নেড়ে সবাইকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন।
যাকে কোনোদিন দেখেননি এবং যার সম্বন্ধে কিছুই জানা নাই, তার থেকে দোয়া নেয়ার জন্যে তরুণী ৬০ মাইল দূর থেকে চলে এসেছিলেন।
মূলত, যারা আল্লাহর প্রকৃত মাহবুব বান্দা, তাঁরা আল্লাহ তায়ালাকে যেমন ভালোবাসেন, সমস্ত মাখলুকও তাঁদের তেমন ভালোবাসতে থাকেন। আল্লাহর প্রেমিকদের অন্তরে থাকে আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা, আর আমাদের অন্তরে থাকে তেমন আল্লাহওয়ালাদের জন্যে ভালোবাসা।
তথ্যসূত্র :
১। ইমাম বুখারীর দেশে : ২৭৭
২। লাহোর থেকে বুখারা: ১৯৮
ছবি: খারকিভ রেলওয়ে স্টেশন, ইউক্রেন