১৭ জুলাই ১৯৯২
মসজিদে তারিখ, মস্কো, রাশিয়া
https://maps.app.goo.gl/DBwDwpyeGkYqLsbp6
https://en.wikipedia.org/wiki/Moscow_Cathedral_Mosque
১৯৯২ সনের ১৭ই জুলাই মাহবুবুল উলামা ওয়াস সুলাহা হজরতজী তাসখন্দ থেকে রওনা হয়ে মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছলেন। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে মেট্রোরেলে চড়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের নিকট গমন করেন। রেলস্টেশন থেকে মসজিদের দিকে যাবার সময় একজন রাশিয়ান মালপত্র নিজে বহন করার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ‘একজন অপরিচিত রাশিয়ান ব্যক্তি হাজরতজীর মালপত্র বহন করতে চাচ্ছে’ - বিষয়টি সবার মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।
সেখান থেকে নিকটবর্তী "তারিখ মসজিদে" সবাই অবস্থান করছিলেন।
এমন সময় একজন সুদর্শন যুবক পানির বোতল হাতে প্রবেশ করলে হজরতজি বললেন - "তুমি আমার জন্যে পানি আনতে দেরি করে ফেলেছো।"
তিনি মুচকি হেসে হজরতজীর সাথে বুকে বুক মিলিয়ে বললেন - "আমি আপনাকে একটি আশ্চর্য ঘটনা শোনাবো।
আমার নাম রাবেল তাজউদ্দীন। আমি এয়ারফোর্সে চাকরি করেছি এবং বর্তমানে ফটোগ্রাফির সাথে জড়িত। আমি জুমার দিন কেন্দ্রীয় মসজিদে যাবার সময় লক্ষ্য করলাম, একজন রাশিয়ান ব্যক্তি আপনার মাল-সামান বহন করার জন্য অনেক কাকুতি-মিনতি করছে। আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে অবাক হয়ে গেলাম। কেননা, সেই রাশিয়ান ব্যক্তিকে আমি কোন সময় কারো সাথে ভালো ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি ভাবলাম, আপনার সঙ্গে সে এমন সৌজন্যমূলক আচরণ করছে, নিশ্চয়ই আপনি কোনো বিশিষ্ট প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হবেন।
নামাজ শেষ করে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করবো, এমন চিন্তা করছিলাম, কিন্তু এরই মধ্যে আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আপনারা চলে গিয়েছেন।
আজ সেই মানসে আবার তারিখ মসজিদে আসার সময় আমি পানির বোতল ক্রয় করি আপনাকে হাদিয়া দেয়ার জন্যে। কিন্তু আপনার তো জানার কথা না, আমি আপনাকে হাদিয়া দেয়ার জন্যেই এই পানির বোতল ক্রয় করেছি।
তাই আমি মসজিদে প্রবেশ করার সাথে সাথে আপনি যখন বললেন, আমি পানির বোতল আনতে দেরি করেছি, তখন আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম।
অবশেষে রাবেল তাজউদ্দীন বাইয়াত হলেন। তাতারী বংশের এই যুবক মস্কোতে নক্শবন্দিয়া তরিকার প্রথম সালেক হিসেবে পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর তায়ালা এই সিলসিলার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ঘটান।
এভাবে মাহবুবুল উলামা ওয়াস সুলাহা শায়খ জুলফিকার আহমাদ নক্শবন্দীর সংস্পর্শে এসে একজন সাধারণ মানুষ আকর্ষণীয় আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হন। একজন মানুষ যখন ফুলের সংস্পর্শে আসে, তখন তার মধ্য থেকেও ফুলের সৌরভ ছড়াতে থাকে। আর ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস সেই ফুলের সৌরভ আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়।
যেমন হাজরতজীর মাধ্যমে আল্লাহর মারেফতের নূর আশেকদের হৃদয়ে পৌঁছে যায় :
کَهَاں مَیْں اَوْرْ کَهَاں یِهْ نِكَهتْ گُلْ
نَسِيْمِ صُبْحْ تِیْرِیْ مِهِرْبَانِیْ
কাহা মাইঁ আওর কাহা এহ নিখাত গুল
নাসিমে সুবেহ তেরী মেহেরবানী
অর্থ: কোথায় আমি আর কোথায় এই সুগন্ধি ফুল!
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস তোমারই মেহেরবানী।
তথ্যসূত্র:
১। ইমাম বুখারীর দেশে, মুফতি মোহাম্মদ শফিউল আলম, ২৪২
ছবি: মসজিদে তারিখ, মস্কো